,
শিরোনাম:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক লোক আহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন ট্রেনের টিকেটসহ পাঁচ কালোবাজারি আটক, প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা জব্দ আপেক্ষিক অর্থে বলা হয়েছে ৫০ বছর সময় লাগলেও সুষ্ঠ তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের ধরা হবে..ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনমন্ত্রী৷ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণসংবর্ধণার জবাবে গণপূর্ত মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরী এমপি মজুদদারদের জরিমানা নয়, কারাগারে পাঠানোর অনুরোধ জানাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক সেবন করে অশ্লীল আচরন করায় সাতজনকে কারাদন্ড অবৈধভাবে খাল কাটা ও ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মানের প্রতিবাদে বিজয়নগরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বাঞ্ছারামপুরে পুকুরে মিললো কিশোরের হাত-পা বাধাঁ লাশ৷ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে ৮০০ কম্বল বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে চুরি করার অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিলের জমি থেকে অটো চালকের মরদেহ উদ্ধার

জাপার সাদ এরশাদ জয়ী

জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে এরশাদ পুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ লাঙ্গলে প্রতীকে ৫৮ হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর ফলে আসনটি জাপার দখলেই থাকল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান পেয়েছেন (ধানের শীষ) ১৬ হাজার ৯৪৭ ভোট। আর জাপার বিদ্রোহী প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (মোটরগাড়ি-কার) পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৮৪ ভোট। ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার সন্ধ্যার দিকে রংপুরের পুলিশ হলে উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সাহাতাব উদ্দিন নির্বাচন কমিশনের পক্ষে বেসরকারীভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

এদিকে রংপুর উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও ভাল ভোট হয়েছে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার সাংবাদিকদের কাছে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান। তবে নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন কিংবা ইসি সচিব কথা বলেননি। মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আজকের আবহাওয়া ভাল ছিল। কোথাও কোনো সমস্যাও হয়নি। ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও ভোট ভাল হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।’

এবার আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপিসহ অনেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর উপনির্বাচনকে ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল ভোটারদের মধ্যে। কিন্তু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরে যাওয়ায় প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ ভোটের আশাও কমে যায়। দলের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের বিরোধিতার মধ্যেই নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম রাজু ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে বলেন, দলের স্বার্থে নিজেকে ‘বিসর্জন’ দিলেন তিনি। যার প্রভাব দেখা গেছে ভোটের দিনও। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও দুপুর ১টা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কেন্দ্র ঘুরে সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, সকালের দিকে কেন্দ্রগুলোতে কিছু ভোটারের উপস্থিতি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে যায়, দুপুরের পর ভোটার শূন্যও দেখা গেছে কিছু কেন্দ্র। অধিকাংশ কেন্দ্রেই নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ভোটারের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এই নির্বাচনে মোট ছয় জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। বাকি তিনজনের মধ্যে গণফ্রন্টের ফোরামের কাজী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পেয়েছেন ১৬৬২ ভোট, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মÐল পেয়েছেন ৯২৪ ভোট ও এনপিপি’র শফিউল আলম পেয়েছেন ৬১১ ভোট।

গত ১৪ জুলাই বিরোধীদলীয় নেতা ও জাপার চেয়ারম্যান এরশাদের মৃত্যুর পর ১৬ জুলাই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। ৫ অক্টোবর ভোটের দিন ঠিক করে নির্বাচন কমিশন ১ সেপ্টেম্বর আসনটিতে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে। রংপুর সেনানিবাস, রংপুর সদর উপজেলা এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ড ছাড়া বাকি সবগুলো নিয়ে এই আসনটিতে এবারও কেন্দ্র ছিল ১৭৫টি। মোট ১৭৫টি কেন্দ্রের এক হাজার ২৩টি গোপনকক্ষে চার লাখ ৪১ হাজার ২২৪ জন ভোটারের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়, যাদের মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ২০ হাজার ৮২৩ এবং নারী দুই লাখ ২০ হাজার ৪০১জন। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে ১৭৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, এক হাজার ২৩ এবং দুই হাজার ৪৬ জন পোলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে নির্বাচন শুরু হওয়ার পর শনিবার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীরা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানান। রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী সাদ এরশাদ জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। শনিবার দুপুর ২টার দিকে শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাদ এরশাদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। সকালে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে। আমার বাবার মত আমার সঙ্গেও রংপুরের সাধারণ জনগণ আছেন। সেহেতু আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোটের আয়োজন করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদা তৎপর রয়েছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।’ বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমানের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সাদ এরশাদ বলেন, ‘অন্য প্রার্থীরা তাদের পরাজয় বুঝতে পেয়ে নির্বাচন নিয়ে মিথ্যাচার করছেন।’ এসময় তার সঙ্গে জাপার কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হাসানুজ্জামান নাজিম, জেলা জাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তবে পরিবেশ নেই বলে মানুষ ভোট দিতে আসছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান। তার দাবি, নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা পক্ষপাতিত্ব করছেন। গতকাল ভোট শুরু হওয়ার পর ১০টার দিকে রংপুর নগরের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন।
রিটা রহমান বলেন, ‘ভোটের আগের দিন শুক্রবার রাতে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে প্রশাসন। ভোটের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি নিয়ে গেছে। ভোরে আবার আমরা সেগুলো পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে রাতে মোবাইলে ও সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের অন্যতম বৃহৎ একটি দল। আমরা বারবার অনুরোধ করেছিলাম যে ভোটের মাঠ সুষ্ঠু রাখেন। নিরপেক্ষ আচরণ করেন। কিন্তু তারা (প্রশাসন) ‘পক্ষপাতিত্ব’ করছেন। ভোটের মাঠ সবার জন্য সমান করতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ।’
ভোটার উপস্থিতি নিয়ে এ প্রার্থী বলেন, ‘নির্বাচন ও ইভিএম নিয়ে মানুষ আশাহত। তাই এই নির্বাচনে জনসম্পৃক্ততা নেই। পরিবেশ সুষ্ঠু না হওয়ায় মানুষ ভোট দিতে আসছে না। স্বাভাবিক পরিবেশ হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী থাকার জায়গা থাকতো।’ এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু প্রমুখ।
অন্যদিকে ভোটারের উপস্থিতি কম হলেও নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। শনিবার সকালে মহানগরীর সনপাড়া শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের মোটরগাড়ি প্রতীকে নির্বাচন করা এরশাদের ভাতিজা বলেন, ‘ভোটার উপস্থিতি কম হলেও নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যা বাড়তে পারে।’ জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে আসিফ শাহরিয়ার বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
আসিফ বলেন, ‘ইভিএমের মাধ্যমে ভোটার হওয়ায় এবং উপনির্বাচনের কারণে ভোটার উপস্থিতি কম। তবে আস্তে আস্তে ভোটার সংখ্যা বাড়বে।’

ভোট না থাকায় চার প্রার্থীই ভোট দিতে পারেন নি: এদিকে রংপুরের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বী ছয় প্রার্থীর মধ্যে চারজনই নির্বাচনী এলাকার ভোটার নয়। এ কারণে তারা ভোটও দিতে পারেন নি। রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার জিএম সাহাতাব উদ্দিন জানান, কোনো প্রার্থী এই এলাকার ভোটার না হলে ভোট দিতে পারবেন না। তবে প্রার্থী ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারবে। এরশাদ পুত্র রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ স্থানীয় ভোটার না হওয়ায় প্রার্থী হয়েও লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান নি। এছাড়া ভোট দিতে পারেন নি বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান (ধানের শীষ), গণফ্রন্টের কাজী মো. শহীদুল্লাহ বায়েজিদ (মাছ) ও এনপিপির শফিউল আলম (আম)।
তবে নির্বাচনী এলাকার ভোটার হিসেবে এরশাদের ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (মোটরগাড়ি-কার) ও খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মন্ডল (দেওয়াল ঘড়ি) ভোট দিয়েছেন।

ওয়েব ডিজাইন ঘর

Sorry, no post hare.