খবর সারাদিন রিপোর্টঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুটি হত্যা চেষ্টা মামলাকে আড়াল এবং ওই দুটি মামলা থেকে নিজেরা অব্যাহতি পেতে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে যুব পঞ্চায়েত কমিটির নেতারা মাদক ব্যবসার অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মোঃ মেহেদী হাসান লেনিন।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মোঃ মেহেদী হাসান লেলিন এই দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেহেদী হাসান লেনিন অভিযোগ করে বলেন, শহরের মধ্যপাড়ার শান্তিবাগ এলাকার শফিকুল ইসলাম একজন ভ‚মি দস্যু। তিনি ইতিপূর্বে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন।
জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান হৃদয়, জেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ও শান্তি যুব পঞ্চায়েত কমিটির অর্থ সম্পাদক ইলিয়াছ চৌধুরী সম্পর্কে আপন চাচা-ভাতিজা। ইলিয়াছ চৌধুরী হেফাজতের রাজনীতির সাথে জড়িত।
জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান হৃদয়ের পিতা রফিকুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর শফিকুল ইসলাম ও ইলিয়াছ চৌধুরী তাদের বসত ভিটা দখল করার জন্য তাদের উপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছে। এনিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো।
এসব বিরোধের জের ধরে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রæয়ারি ও ১৫ সেপ্টেম্বর শফিকুল ইসলাম ও ইলিয়াছ চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের বাহিনী হৃদয়কে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে কুপিয়ে জখম করে। পরে তারা হৃদয়ের বাড়িতেও হামলা করে।
দুটি ঘটনাতেই হৃদয়ের মা মর্জিনা বেগম মনা বাদি হয়ে শফিকুল ইসলাম, ইলিয়াছ চৌধুরীসহ তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ শফিক ও ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করলে তারা কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।
মেহেদী হাসান লেনিন আরো বলেন, তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান হৃদয়কে আদর করেন। তার বিপদ-আপদে এগিয়ে যান। এজন্য শফিক ও ইলিয়াছ চৌধুরী তার উপর ক্ষুব্দ।
তিনি বলেন, শফিক ও ইলিয়াছ চৌধুরী হত্যা চেষ্টার মামলা আড়াল করে নিজেরা বাঁচতে গত ৫ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে মেহেদী হাসান লেনিন) ও আশিকুর রহমান হৃদয়ের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা মাদক ব্যবসা করিনা। আমাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিকলীগ নেতা মোঃ কামাল মিয়া, সমাজকর্মী আজিজুল হক, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মুন্না ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রনি।